বিএন রিপোর্ট
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ, কোকা-কোলা ফাউন্ডেশন এবং ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)-এর সহযোগিতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টাঙ্গাইলে অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য কর্মীদের জন্য ছয়টি জেন্ডার সংবেদনশীল স্বাস্থ্য ক্যাম্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এই ক্যাম্পগুলোতে ৩৬০ জনেরও বেশি নারী-পুরুষ বর্জ্য কর্মী স্বাস্থ্যসেবা পেয়েছেন, যাদের দৈনন্দিন শ্রম দেশের শহরগুলো পরিষ্কার রাখে এবং প্লাস্টিককে নদী, ড্রেন ও বঙ্গোপসাগরে যেতে বাধা দেয়।
প্রতিটি ক্যাম্পে বিনামূল্যে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়েছে — রক্তচাপ পরীক্ষা, রক্তের শর্করা পরীক্ষা, ওজন ও তাপমাত্রা পরিমাপ এবং একজন নারী এমবিবিএস চিকিৎসকের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরামর্শ। পরামর্শে দীর্ঘমেয়াদী পিঠ ও জয়েন্টের ব্যথা, চর্ম ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা, পেশাগত মানসিক চাপ এবং নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। অংশগ্রহণকারীরা ব্যথানাশক, ওআরএস, আয়রন সাপ্লিমেন্ট ও অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিমসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং ব্যক্তিগতভাবে বিতরণ করা ডিগনিটি কিট নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
প্রতিটি ক্যাম্পে নারী চিকিৎসক নিয়োগ এবং মাসিক ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে খোলামেলাভাবে সেবা প্রদানের সিদ্ধান্ত এই প্রকল্পের জেন্ডার দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে। বাংলাদেশের অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য খাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী কর্মী রয়েছেন, যারা প্রায়ই বহুমুখী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন কিন্তু তাদের উপযোগী সেবা পাওয়ার সুযোগ বিরল।
ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্লাস্টিক সার্কুলারিটি প্রকল্পের প্রজেক্ট এক্সপার্ট সামিউল আহসান বলেন, “বর্জ্য কর্মীরা যেকোনো কার্যকর সার্কুলার ইকোনমির ভিত্তি, অথচ তারা আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সবচেয়ে অবহেলিতদের মধ্যে রয়ে গেছেন। এই স্বাস্থ্য ক্যাম্পগুলো একটি দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকারের অংশ — যারা একটি পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলছেন, তাদের স্বীকৃতি দেওয়া, সহায়তা করা এবং সুরক্ষিত রাখার অঙ্গীকার।”
তিনটি জেলার স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। টাঙ্গাইলে এলেঙ্গা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা চন্দনা রানী সরকার ইউএনডিপি ও কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন “প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহকারীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং ওষুধের মাধ্যমে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য।” কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক মো. শামীম আল ইমরান ঘোষণা করেছেন যে ভবিষ্যতে “নিবন্ধিত প্লাস্টিক বর্জ্য কর্মীদের জন্য একটি স্বাস্থ্য ডেটাবেস তৈরি এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বীমা প্রদান করা হবে, যাতে তারা ধারাবাহিক চিকিৎসার আওতায় থাকতে পারেন।” চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম মাহী ব্যাপকতর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বৈশ্বিক প্লাস্টিক সংকট মোকাবেলায় সরকার, বেসরকারি খাত ও সুশীল সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতা অপরিহার্য। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এই উদ্যোগের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।”
বাংলাদেশে প্রতি বছর ৮ লাখ টনেরও বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য কর্মীরা সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলেন, কোনো সুরক্ষা বা স্বীকৃতি ছাড়াই।
প্লাস্টিকস সার্কুলারিটি প্রজেক্ট চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টাঙ্গাইল জেলায়, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে অনানুষ্ঠানিক খাতের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের অধিকার, স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্লাস্টিককে রিসাইক্লিং (পুনর্ব্যবহার) অর্থনীতিতে (Circular Economy) একীভূত করা সম্ভব হবে।
প্লাস্টিক সার্কুলারিটি প্রকল্পের লক্ষ্য ২০২৭ সালের অক্টোবরের মধ্যে তিনটি জেলায় ১৫,০০০ মেট্রিক টন প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য করা এবং ৬০০ নারীসহ ২,০০০ পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে সরাসরি সহায়তা প্রদান করা।
ইউএনডিপি তিনটি জেলায় ৩৫০ জনেরও বেশি বর্জ্য কর্মীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেছে
RELATED ARTICLES


